কবিচরিত

আলতাফ শেহাব

জন্ম         ২২ বৈশাখ, ১৩৮৮ বঙ্গাব্দ।
              ৭ মে, ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ।
              বৃহস্পতিবার।
              কুমিল্লার জাগজোর।

বাবা        কবির আহাম্মদ ভূঁইয়া।
মা           হোছনেয়ারা বেগম।

শৈশব কেটেছে ডাকাতিয়া পাড়ের নিজ গ্রামের মাটি আর ধূলাতে। কৈশরেই (১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে) চ’লে আসেন বাবার কর্মস্থল কুমিল্লা শহরে। মফস্বলের আলো হাওয়ায় অতিক্রান্ত হয় প্রথম যৌবন। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন।

লেখালেখির শুরু মূলত স্কুল জীবনে। উচ্চমাধ্যমিক পড়াকালীন কলেজের দেয়ালিকায় ‘একই বৃন্তে’ শিরনামে প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্যপত্রিকা ‘প্রভাত’-এ প্রথম কবিতা ছাপা হয় । 

ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হন ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে। বিপ্লবী ধারার প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। সম্পাদনা করেছেন ছাত্র আন্দোলনের কাগজ ‘প্রেক্ষণ’।

কবি ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতি কর্মকাণ্ডেও জড়িত হন। ‘বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র’র পাঠচক্র ও ‘কুমিল্লা আবৃত্তি মঞ্চ’র চর্চা কবিকে লেখালেখিতে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে। কবি কুমিল্লার স্থানীয় চলচ্চিত্র সংগঠন ‘কুমিল্লা চলচ্চিত্র মঞ্চ’র কার্যক্রমের সাথেও যুক্ত ছিলেন।

কুমিল্লার কবি-সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগ্যে প্রতি বছর ‘বৈশাখী বই মেলা’র আয়োজন করা হতো। স্থানীয় পুস্তক বিক্রেতাদের পাশাপাশি ঢাকার প্রকাশকরাও এই মেলায় অংশগ্রহন করতো। কবি আলতাফ শেহাব এই মেলা আয়োজক কমিটির অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মেলায় ‘ছোট ছোট কাগজ’ নামে কবির ছোট কাগজ প্রদর্শনীর স্টল থাকতো এবং একই নামে মেলা কেন্দ্রীক একটি প্রকাশনাও বের হতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাড়াশোনার শুরুতে সহপাঠিদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘বিনায়ক’ নামের সাহিত্য সংগঠন। তাঁদের উদ্যোগে প্রকাশিত কবিতা ও কথাকাগজ ‘কবিতাপত্র’ সম্পাদনা করেছেন ২০০০ হতে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট সাত সংখ্যা। পরে কবির একক প্রচেষ্টায় ‘কবিতাপত্র’র অনলাইন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

২০০৪ খ্রিস্টাব্দে কবি দীপ্র আজাদ কাজলের প্রথম কবিতার বই ‘আত্মঘাতী পোশাকের জন্য’ প্রকাশের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে কবির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠাণ ‘ব্রাত্যজন’। ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মরমী কবি  হাসন রাজা’র সন্তান কবি দেওয়ান একলিমুর রাজা চৌধুরী’র সমগ্র রচনাবলী নিয়ে প্রকাশিত ‘একলিম রাজায় বলে…’ বইটি ব্রাত্যজন’র অন্যতম প্রকাশনা।