কবিতা

নুন আগুনের সংসার

নুন আগুনের সংসার আলতাফ শেহাব দেবীর কপালেআঁধার রঙের প্রদীপ চন্দন,চাঁদবনে আজ দেবতার প্রিয় গ্রহণ। ছায়া-বৃক্ষের গহীন নির্জনেমহুয়াবনে ঝর্ণার জলসিঁথানেঅথবা রতিক্লান্ত দুপুরের নুন-আগুনেআগুনে… সিঁথানে… বনে…শুধুই আঁধারের আগুন তার নষ্টমনে। মেঘের আঁচলে লাল ঢেলেঅনল জলের বর্ষায় ভেজেন।আসক্তির শুকনো হাড়ে বিষ ঢেলেস্বর্গীয় তৃপ্তিতে জিভ ভেজান।তিনি পোড়া রক্তের আঁধারে অপূর্ণ বীজ গর্ভে ধরেন। আকাশের অসীমে … … ব্রাহ্মণদেবতার হাঁটে গিয়ে পৈতা বেচেন,দেবী ও আঁধারের সঙ্গমের দৈর্ঘ্য মাপেন।

নুন আগুনের সংসার Read More »

স্বৈরাচারের টুঁটি চেপে ধর

স্বৈরাচারের টুঁটি চেপে ধর আলতাফ শেহাব স্বৈরাচারের হিংস্র পদাঘাতে শরীর জুড়ে জমা হোক সব ক্ষত বুকের খুনে মলম হবো আজ প্রিয় বোন আমার চলুক বিদ্রোহ। স্বৈরাচারের কালো থাবায় শাড়ির আঁচল জমিনে লুটাক, ছাড়ো আমার মাথার নিশানে বুক ঢাকো প্রিয় প্রেমিকা আমার চলুক বিদ্রোহ। সামনে দাঁড়িয়ে গুলি করে দিল! কারা হলো খুন, কারা তারা হায়েনা কোটি সহোদর সিনা টান করে দাঁড়া প্রিয় ভাই আমার চলুক বিদ্রোহ। এই শ্রাবণে রক্তস্নানে শুচি হলো ধরা আর কতো প্রাণে কাটবে মোহ, স্বৈরাচারের টুঁটি চেপে ধর প্রিয় সন্তান আমার চলুক বিদ্রোহ।

স্বৈরাচারের টুঁটি চেপে ধর Read More »

হিসাব চাই

হিসাব চাই আলতাফ শেহাব প্রজাতন্ত্রের সেবক আপনারাপ্রতিটি বুলেটের হিসাব রাখছেন, ভালোজনতার বুকে ক’টা খরচ করলেন, হিসাব রাখুন তারও। ক’খানা দালান, ইট-কাঠ-বালি ও মেট্রোস্টেশনছাই হলো নাকি অন্তর্জালের তার ও তথ্যভান্ডারহিসাব রাখছেন, সাবাস বেশ। ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, পুলিশ, পথচারী ব্যাংকার, সাংবাদিক ও চাকুরিজীবী ছোট্ট শিশুরা, অসহায় বৃদ্ধ, ভ্যানচালক সদ্য মা হয়েছিলেন যে নারী, অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বামী-কিশোর ফেরিওয়ালা ও শারিরীক প্রতিবন্ধী দোকানিকারা কারা খুন হলেন, কতোজন?দুইশত ছেষট্টি নাকি কমবেশি আরওকড়ায় গণ্ডায় বুঝিয়ে দিন, হিসাব চাইছি তারও। মর্গে জমা আছে যতো অজ্ঞাত লাশ, হতে পারত আমারওআমাদের শ্রমে কেনা প্রতিটি বুলেট, আমাকেই যদি মারোপ্রতিরোধ হবে তুমুল এবার, আছে লাখো সহোদর আমারওস্বজন হত্যার শোধ নিব একদিন, ক্ষমা নাই কোন দানবেরওআমার পতাকায় রক্তে লিখবে, অধিকার নেই কারওবিনা বিচারে খুনিও যদি মরে, হিসাব চাইছি তারও।

হিসাব চাই Read More »

কবিতায় লিখব খুনের বয়ান

কবিতায় লিখব খুনের বয়ান আলতাফ শেহাব জলপাই সবুজে জড়োসড়ো প্রতিটি রাজপথনগরে এমন শ্রাবণ আমরা চাইনি।সাজোয়া ট্যাংকের পিঠে উদ্ধত রাইফেল হাতেপথরোধ করে দাঁড়িয়ে থাকবে প্রহরিএতো বিমর্ষ নিরাপত্তা আমরা চাইনি। বাবার কোলে গুলিবিদ্ধ শিশু রিয়া গোপসন্তানহারা চোখে আজন্ম শোক চাইনি।ঝাঁজাল কাঁদানেগ্যাস রুখতে গিয়েজনালার শার্শিতে গুলিবিদ্ধ হলোকিশোর সামির, চোখের মনি ভেদ করেমাথার খুলি ভেঙ্গে দিল ঘাতক বুলেট,তাঁর মায়ের আজন্ম শূন্যদৃষ্টি চাইনি।প্রকাশ্যে রাস্তায় খুন হলো আবু সাইদসরাসরি বুকে গুলি করে দিলো বাহিনী।চোখেমুখে হাঁসতো ছেলেটা মীর মুগ্ধআমাদেরই অর্থে কেনা বুলেটে স্তব্ধ।আছে এমন আরো শতশত খুনের বিবরণকটা মুছবে রাষ্ট্রীয় শোকের কালো প্রহসন? নিরাপত্তা ভিক্ষা চাইছে নিরাপত্তা বাহিনীলাশের মিছিলে শামিল হচ্ছে ইউনিফর্মবিনা প্রতিরোধে ভেঙ্গে যাচ্ছে কারাগারআমার বুকে তাক করে রাখা দেহরক্ষীর বন্দুকরক্তস্রোতে উপচে পড়ছে নালা-নর্দমার বুকজনতার মুখোমুখি লোভী রাজনৈতিকের মুখলাশ কাটা ঘরে অগণিত লাশ পরিচয়হীনছাই হয়ে গেছে অন্তর্জাল যদিও তারহীনদিনের পর দিন বিভৎস সান্ধ্য আইনদিনের আলোয় সব দাবি মেনে নিবে ঠিকঅন্ধকার ঘনীভূত হলে দরোজায় ঠক ঠকরাষ্ট্রের সকল সান্ত্রী নির্ঘুম রুখে দিতে জনতাএ কোন প্রেতছায়া, কারা জনপদের ক্ষমতা। আলমত নষ্ট করবে, ফাঁসিয়ে দেবে সহযোদ্ধাদেরপ্রয়োগ করবে- মুছে দেয়ার আছে যতো কৌশলএজহারে বিবরণ লিখবে তোমাদের মতো ছলে!প্রতিটি সুরভিত নগর উদ্যানে জড়ো হবো আমরাঢেকে দিব যতো কোলাহল সব মিছিলে মিছিলেকবিতায় লিখব খুনের বয়ান দেয়ালে দেয়ালে।

কবিতায় লিখব খুনের বয়ান Read More »