কবিতা

আমায় তোমরা নিও

আমায় তোমরা নিও আলতাফ শেহাব দিন এবং রাতের আর সন্তাপ নেই; ক্ষ্যাপাযারা তোমরা কান্না দেখো, কাঁদোআমায় তোমরা নিও ভেতর এবং বাইরে আর বৃষ্টি নেই; শুকনোযারা তোমরা কাছের মানুষ, কাছে থাকোআমায় তোমরা নিও চোখ এবং দেখায় আর স্বস্তি নেই; আঁধারযারা তোমরা স্বপ্ন দেখাও, দেখোআমায় তোমরা নিও মানুষ এখন একলা বাঁচে; নিজের সাথেযারা তোমরা মিছিলে যাও, হাঁটোআমায় তোমরা নিও

আমায় তোমরা নিও Read More »

ছুটে আসে অশ্বারোহী তিরন্দাজ

ছুটে আসে অশ্বারোহী তিরন্দাজ আলতাফ শেহাব প্রতিটি হলুদ দুপুরেতন্দ্রার ভেতর চলে যায়                        একটি মায়া হরিণ চন্দ্রাহত রূপালী মেঘখণ্ডের মতোগহীন অরণ্যে ছুটে আসে                        অশ্বারোহী তিরন্দাজ এইসব নিয়ম-অনিয়ম, ক্ষুধা-তিরস্কারশেষ চুম্বনের মতো শুষে নেয়আমার যে ছিল শেফালী;বোঁটার ছোপ্ ছোপ্ রক্তেমিশে যায় শিশিরের ঘ্রাণ পৃথিবীর রাত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়চন্দ্রাহত রূপালী মেঘখণ্ডের মতোআঁধারে আঁধারে ছুটে আসে                         অশ্বারোহী তিরন্দাজ

ছুটে আসে অশ্বারোহী তিরন্দাজ Read More »

এ মৃত্যুর উৎসবে

এ মৃত্যুর উৎসবে আলতাফ শেহাব একদিন মৃত্যুর যোনির ভেতর গ’লে যায় মানুষ; সাদা বরফের মতোনজল হ’য়ে যায় সকল সম্ভাবনা এ মৃত্যুর উৎসবেআমি আবার একা হ’য়ে যাইনির্জন দুপুরে অশ্বত্থের প্রাচীন বিবর্ণ শরীরেপাখিদের মিছিলে একা আমিপাতার শরীরে ভাঙ্গে আলাপের প্লাবনদুপ্ করে জ্বলে ওঠে বিভীষিকা ভয় অলৌকিক বর্ষণে রঙের আকাশেবহুবার মরে গেছে মেঘপরমার সাথে স্নানের পথে হেঁটে হেঁটেমমতা আর ক্লান্তিতে প্রতিদিন থেমে গেছিতার রঙহীন নিরুত্তাপ মন্দিরের ঘাটে

এ মৃত্যুর উৎসবে Read More »

গন্তব্য ঘুম নয়

গন্তব্য ঘুম নয় আলতাফ শেহাব আমি যখন আবার আকাশের মেঘ-নৃত্যে বিভ্রান্ত হই, সময়ের অনন্ত চোখে বিদ্রুপের হাসিই খেলে যাওয়ার কথা। কিন্তু সে দুপুরের অন্তরঙ্গ শরীরে বয়সের ভারে কুঁজো হ’য়ে জলের সাথে কথা বলে। আমাদের বয়েসি শরীর তাকে আবার গর্ভবতী হবার কথা ভাবায়। প্রসবোন্মুখ আকাশ জল, জ্যোৎস্না … … … এবং জন্মের সুরে মালা গেঁথে প্রসব ক’রে যায় অদ্ভুত সব নিয়মের স্বরলিপি- মগজে মৈথুন ছাড়া শঙ্খ বাজেনাপ্রেমও লাগেনাজানি। সমর্পণের খেলা সাজাইপতনের খেলায়জলের সাথে সহমরণে যাইশেষ যদি কিছু থাকে- ঘুম …গন্তব্য ঘুম নয় ভোর হ’তে পূর্ণিমার শেষ পর্যন্ত হাঁটিঅগাধ ক্লান্তি পায়ে হাঁটিগন্তব্যের পথে পা বাড়াইনা

গন্তব্য ঘুম নয় Read More »

অনল জলের চিহ্নগুলো

অনল জলের চিহ্নগুলো আলতাফ শেহাব শহরের সব কৃষ্ণচূড়া এবং রাধাচূড়ার শরীরযেন আজ গোধূলির বিষণ্ন কাফনের মতো। জামরুলের রসালো শরীরে জমে আছেচৈত্রের দুপুরের মতো অদ্ভুত বিরক্তির জলপাই। প্রিয়সর্বনাশের ক্লান্ত বেদনার মতো মুখটিরস্মৃতির ঢেউয়ে অসহায় ডুবসাঁতার। সর্পিল বক্রতায় হেঁটে চলে ধোপানীর ধাতব তাপযন্ত্রঈশ্বরীর দেহে কামনার খই ফোটে নবান্নের মটরশুটির মতো। নৈঃশব্দের ডানা ভাঙ্গা ডাহুকির ধ্যান ভাঙ্গেবেহুলার জৈব প্রেমের প্রতি অংক সময়। পাতা ঝরায়- লজ্জ্বায় লাল ফাল্গুনের শিমুলবনরঙধনুর প্রচলিত সাত রঙে জলজ ছন্দপতনঝি-জলে শুদ্ধ হয় জাতে ওঠা ক্ষ্যাপা বাউলসুর তোলে বেনোজলে ভেসে যাওয়া নারী-পুরুষআমাদের ইচ্ছার ঘুনপোকারা আর্তনাদ ক’রে ক’রেক্লান্ত হোক; ঘুমিয়ে পড়ুক- কালঘুমে।

অনল জলের চিহ্নগুলো Read More »

শঙ্খের জিভের খোঁজে জল

শঙ্খের জিভের খোঁজে জল আলতাফ শেহাব শঙ্খটি সমুদ্রপাড়ের বালিঝুলির হাটে কেনা। অজস্র কাঁটার শরীর; আদরে আদরে শঙ্খের জিভ খুঁজি। বারবার শঙ্খের কাছে যাবার আকুতি। ঝড় ওঠে। ভাবি- শঙ্খটির পুরুষ ছিল, ছিল আদর করার মানুষ। সে আমাকে সুড়সুড়ি দেয় পুরুষ ভেবে। পুরুষ হয়ে উঠি কামচোখে। ছুটে গিয়ে জলে মজি। আদরখাকী জল- সমস্ত শরীরে আমাকে চুষে খাবার আয়োজন। সবশেষে ক্লান্ত হয়ে শঙ্খটিকে সপে দেই জলের শরীরে। শঙ্খের গভীরে জল তাড়নার আগুনে ঢেলেছে বিষ। শঙ্খের জিভের খোঁজে জল অনন্ত ভ্রমন শেষে ছুটে আসে আমার কোমরের কাছে- আবার হানা দিই দেবীর মৌচাকেতলিয়ে যাই রসের গভীরে।

শঙ্খের জিভের খোঁজে জল Read More »

একাগ্র চাতক আমি এক

একাগ্র চাতক আমি এক আলতাফ শেহাব এক ঝড়োসন্ধ্যায় হন্তদন্ত ছুটে এসে বলেছিলে গানদু’টি শুনিও; এমন আকুতি-উত্তাপআর কোন দৃষ্টিতে দেখিনি একাগ্র চাতক আমি একনদী এবং তোমার গল্পে অনন্ত শোক যে ফুল আমি ভালবাসিআর যা কিছু তোমার আমারনরম রোদের নগ্ন বিকেলখোঁপার কাঁটায় বিষের ছোবলদীর্ঘ যাত্রার ক্ষুদ্র দু’এক মূহুর্তকাল যাওয়া কিংবা আসার গল্পে দু’একটি রাতছুঁয়ে দেখো সেই হাত

একাগ্র চাতক আমি এক Read More »

দূরতম জোছনা এবং সকাল

দূরতম জোছনা এবং সকাল আলতাফ শেহাব না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে                          -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দায়হীন সন্ধ্যার মতো মুছে যায়দূরতম জোছনা এবং সকালপ্যাঁচার চোখের মতোদীর্ঘ সময় ব্যায় করা যায়কখনো কোন-কোন অনাঘ্রাত চকোলেটে নিশীপাওয়া মানুষের মতোএরকম বহু রাত যাপন করেছিদূরতম জোছনায় বিগত চাঁদের রাতেচূড়ান্ত ক্লেশে হেঁটেছি সকালের পথে দায়হীন সন্ধ্যার মতো সত্যিই মুছে যায়নিশীপাওয়া কিছু কিছু মানুষেরদূরতম জোছনা এবং সকাল

দূরতম জোছনা এবং সকাল Read More »

বিকেলে ঘাসের ’পরে

বিকেলে ঘাসের ’পরে আলতাফ শেহাব প্রানান্তকর সংগ্রাম শেষে একেকদিনতাহাদের সাথে বিকেলে ঘাসের ’পরেবিদির্ণ হ’তে হ’তে বিষে; পথহারা শ্রান্ত পথিকের মতো নির্জন বিকেলেরা অথচ পুনর্বার নির্মোহ হয়ে উঠেনা নগরে প্রতদিনই পথে পথে বিবিধ মঞ্চেএরকম জড়ো হয় জমির দালাল, প্রেমিক জুটিঅনভিজ্ঞ কবি ও অচেনা গন্ধে বকুলের তামশা সকলের মনে সাপলুডু খেলে যায় আশা প্রেমের ফেরিওয়ালা দীর্ঘদেহি মহিলাটিমৃদু কাঁপন তুলে যায় তাহাদের মনেবিদির্ণ হ’তে হ’তে ঘরেই ফিরে যেতে হয়এই মৃত নগরীর সোডিয়াম আস্ফালনে

বিকেলে ঘাসের ’পরে Read More »

এইসব ব্যধিগুলো নিত্যদিনের

এইসব ব্যধিগুলো নিত্যদিনের আলতাফ শেহাব সকালের রোদবৃক্ষের মাথা ছোঁয় সবার আগেঅথচ ঘনজঙ্গলেভোরের আলো ছুটোছুটি করে ভূমিসংলগ্ন ঘাস ফুলের পায়ে পায়ে পৃথিবীর যে কোন গণিত বলে দেবেতাপ আর আলোর দ্বন্দ্বে আলোই বেশী যায় তবুও কিছু পথিক হাঁটেন … প্রিয় জারুলের শুশ্রূষায়জলের আসা-যাওয়া পতনের রঙ ধরেপ্রসিদ্ধ স্টেশন হ’তে উর্ধ্বগামী ট্রেনেকৃষ্ণচূড়ার মোহ ফেরি ক’রে ক’রেনিস্ফলা ফেরে সন্নাসী নিম্নগামী ট্রেনে এইসব নিয়মিত ব্যাধিগুলো নিত্যদিনের

এইসব ব্যধিগুলো নিত্যদিনের Read More »