পাতা ও ধূলি
আলতাফ শেহাব
একদিন বিপন্ন দুপুরবেলা আমাদের উঠানে ধূলিঝড়ের সে এক বিস্ময়কর অপরূপ খেলা। কতোরকম শুকনো পাতার বিচিত্র নাচন। তারা কাকে যেনো ঘিরিয়া ঘিরিয়া ঘুরিয়া ঘুরিয়া নাচে আর সুতীব্র বেগে দূরে চ’লে যায় অজানার পথে। আমরা তাদের পিছু পিছু ছুটে বেড়াই। এ বিচিত্র খেলার সঙ্গি হ’তে চাই। কিন্তু আমাদের হতবাক ক’রে তারা যেনো কোন সুদূরে মিলিয়ে যায়। বাতাসের সুতীব্র দাপট আমাদের ঠেলে নিয়ে যায় ঘরের চৌকাঠে দরোজার কোনে।
আমাদের শিশুহাতের যত্নে বেড়ে ওঠা পুঁই লতাটির পাতায় পাতায় বাতাস আর ধূলিদের সেকি আমোদ-উল্লাস। প্রিয় পুঁই পাতারা সুপক্ক শিমুলের তুলা আর মেহগনি বীজপত্রদের সাথে পাল্লা দিয়ে বাতাসের সাথে নৃত্যরত। শিমুলের তুলারা মেঘেদের মতো ভেসে বেড়ায় বাতাসে বাতাসে। মেহগনি বীজপত্ররা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে প্রান্তরে। অসহায় ধূলিরা পুঁই পাতাদের শরীরে মাখামাখি হ’য়ে বাতাসের সুতীব্র দাপটে জমিনে গড়াগড়ি যায়।
এভাবেই ঘনকালো মেঘেরা বর্ষণ হ’য়ে নেমে আসে ধরণীতে। থমকে যায় বাতাসের তান্ডব। আর আমাদের প্রিয় পুঁই পাতারা ধাতস্থ হ‘য়ে ওঠার আগেই ধূলি আর বৃষ্টির জলে গড়াগড়ি যায়। অবিরাম বর্ষণক্লান্ত আকাশ যখোন পূর্ণবার সূর্যের সঙ্গি হয় দিনের আলোয়; আমাদের প্রিয় পুঁই পাতাদের সর্বাঙ্গে ধূলিদের সেকি অপরূপ উজ্জ্বল দৃপ্তি।
তারপর বহু দুপুর গত হ’য়ে গেছে আমাদের জীবনে। বহু দাম্পত্য দুপুর ফলবতি হয়েছে কোথাও কোথাও। আমাদের প্রিয় পুঁই পাতা আর ধূলিদের সেই অপূর্ব রমণদৃশ্যটি তার নিজস্ব দৃপ্তিতে আজো উজ্জ্বল স্বমহিমায়।

