ফিঙে ও শঙ্খচিল

ফিঙে ও শঙ্খচিল

আলতাফ শেহাব

সূর্য উঠার আগেই ঘর্মাক্ত শরীরে বিছানা ছাড়ি প্রতিদিন। বসন্তকাল, নরোম বাতাস, মাঠে বিশাল সবুজের সমারোহ। কৃষকরা আগাছা নিড়ানীতে ব্যস্ত। খেতের আলে ছড়িয়ে থাকা খুঁটিগুলোতে পুচ্ছ দুলাচ্ছে ফিঙেরা। সজাগ দৃষ্টি; ঠোঁটে ঘাস ফড়িঙের লালসা।

আমরা দুষ্ট বালকের দল পতঙ্গফাঁদ নিয়ে প্রস্তুত। আমাদের ছোট ছোট চোখে শালিকের দৃপ্তি। ভোরের আলো প্রসারিত হওয়ার আগেই ধানের খেত ভরে ওঠে মা পাখিদের কলরবে। বাচ্চার আহার সংগ্রহে বেপরোয়া শালিকের দল। আমাদের মুগ্ধ চোখ মাঝেমাঝেই সতর্ক হ’য়ে ওঠে পতক্সগ ফাঁদের ঈশারার প্রতি। হঠাৎ পতক্সগফাঁদে আটকা পড়া একটি শিশু ফিঙের তীব্র চিৎকারে আমাদের ধ্যান ভাঙ্গে। ছুটে যাই তড়িৎ। ফাঁদের কাছাকাছি যেতেই কানের কাছে ঝপাঙ নেমে আসে বলিষ্ঠ ফিঙের ডানার সুতীব্র ঝাপট। ফিঙে দলপতির দূরন্ত সাহস আমাদের বিমূড় করে দেয়। থমকে যায় আমাদের সোনালী সকাল।

ধীরে ধীরে যৌবনপ্রাপ্ত হয় সকাল। আকাশে নেমে আসে ক্ষুধার্ত শঙ্খচিলের দল। কাঁকড়া শিকারী শঙ্খচিলেরা সুতীব্র বেগে নেমে আসে নিচের দিকে; ছোবল মেরে নিমেশেই চ’লে যায় আকাশে। বিচিত্র রকমের এসব খেলায় মেতে উঠি আমরা।

দু’টি দুরন্ত ফিঙের অসীম সাহস আমাদের মনোযোগকে আরেকবার টেনে নিয়ে যায় দিগন্তের ওপারে। ফিঙেদু’টি একের পর এক বেপরোয়া ডানার ঝাপটে দিশেহারা একটি শঙ্খচিল অসহায় ঘুরতে থাকে আকাশে আকাশে। অবাক বিস্ময় নেমে আসে আমাদের আকাশে। আমাদের চোখে স্থীর হ’য়ে থাকে দু’টি দুরন্ত ফিঙের কাছে একটি বলিষ্ঠ শঙ্খচিলের অসহায় আত্মসমর্পনের দৃশ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *