ভ্রোমর ও কলি

ভ্রোমর ও কলি

আলতাফ শেহাব

হলুদ রঙের ঝুটিওয়ালা একটি কালো ভ্রোমর যে কতোরকম পুলক নিয়ে আসতে পারে স্কুল পলাতক কোন কিশোরের মনে; তা আমার চেয়ে আর কে বেশী জানবে? শীতের সকালে সকল আলস্যকে উপেক্ষা করে ছুটতাম আমরা কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ছাত্ররা। রাস্তার দুইধারে সাদা ভাটফুলের সুতীব্র গন্ধ ছুটতো আমাদের পিছু পিছু।

আটবছর বয়সি তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। নেশা বোঝা সে অনেক পরের ব্যাপার। হলুদ রঙের ঝুটিওয়ালা একটি কালো ভ্রোমর স্তব্দ ক’রে দিয়েছিল কুয়াশার চাদরমোড়া শীতের সকাল। জগতের সব সময়ের কাঁটাই থেমে গিয়েছিল কি এক অপরূপ নেশায়। আজো অনাবিষ্কৃত র’য়ে গেছে কী ছিল সেদিনের সেই কালো ভ্রোমরের গুঞ্জরণে। আমার সেদিন আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। বাড়ী ফিরেছি দিয়াশলাইয়ের বাক্শোবন্দি কালো ভ্রোমরের গুনগুন্ কানে এবং তানে নিয়ে।

আমাদের কালো ভ্রোমরদের প্রিয় ছিল যে ভাটফুল। যে ফুলের নেশা তাদের নিয়ে আসতো আমাদের মতো দুষ্ট বালকদের হাতের নাগালে। সে ফুলের মধু কোথায় ছিল তা জেনেছি অনেক পরে। তার তিক্তস্বাদ হাতে নিয়ে বাড়ী ফিরে খাওয়া-দাওয়া মাথায় উঠেছে কতোদিন। আমাদের সহপাঠি একমাত্র বালিকাটির হাতঘুরে যেদিন ভাটফুল বাড়ী পর্যন্ত সারারাস্তার সঙ্গী ছিলো; সেদিন জেনেছিলাম ফাটফুলের তীক্ত রসেও যে এক প্রকার মধু সঞ্চার হয় মানুষের মনে, গুঞ্জরিত হয় হাজার ভ্রোমরের গান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *